রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে বিক্ষোভ করেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)’। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তারা।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে প্রতিহত করতে হাইকমিশনের সামনে একাধিক ব্যারিকেড বসায় দিল্লি পুলিশ। তবে একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
মঙ্গলবার ভিএইচপির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগেই বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দ্য হিন্দু জানায়, এলাকাজুড়ে তিন স্তরের ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও একাধিক বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে কূটনৈতিক স্থাপনার দিকে অগ্রসর হয়। তারা অন্তত দুই স্তরের ব্যারিকেড ভাঙতে সক্ষম হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
দ্য হিন্দু এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এবং শিলিগুড়িতে ভিসা সেন্টারের সামনে একাধিক সংগঠন বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি ও আগরতলায় ভিসা সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একইদিন দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফটকে ভিসা সেবা সাময়িক বন্ধের নোটিশ টানানো হয়।
কলকাতায় তিন দফায় বিক্ষোভ হয়। এর একটি কর্মসূচিতে বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘হিন্দু সনাতনীরা’ অংশ নেন। পুলিশ বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। অন্যদিকে শিলিগুড়িতে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের পতাকা সংবলিত একটি ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলে এবং সেটিতে আগুন দেয়। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়। কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে ভিসা সেন্টার বন্ধ রাখার হুমকি দেন।
এ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, নয়াদিল্লি, কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ মিশন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।